ধর্ষণঃ

ধর্ষণঃ

মিসির আলির শঙ্কা ধর্ষণের খবর ব্যতীত পত্রিকার পাতা, টেলিভিশনের পর্দা আজ বেমানান। একদিকে চলছে ধর্ষকদের উল্লাস, যে উল্লাস তৈরি করেছে ধর্ষকদের উৎসবমুখর পরিবেশ। অন্যদিকে চলছে ধর্ষিতার আত্মগ্লানির চাপা আর্তনাদ, যে আর্তনাদ মনুষত্ব স্পর্শ করতে পারে না, বিবেককে যথার্থভাবে আঘাত করতে না, মাতৃসম জনপ্রতিনিধিদের নারীত্বকে জাগ্রত করতে পারে না, বিচারকের সততা, মনুষত্ব ও বিবেককে নাড়া দিতে পারে না। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে মোবাইল ও কম্পিউটারের কী-বোর্ড গুলো প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে পায়, মোবাইলের স্ক্রিনপেপার খসখসে হয়, কম্পিউটার কী-বোর্ডের বর্ণমালা বিবর্ণ হয়; তারপর অন্য কোন ধর্ষিতার আর্তনাদের অপেক্ষায় থাকে; একদিন প্রতিবাদের ভাষা শেষ হয়, নিশ্চুপ হয়ে যায় কী-বোর্ড। শেষ হয় না কেবল ধর্ষিতার আর্তনাদ, শেষ হয় না ধর্ষিতার পরিবারের বুকফাটা হাহাকার। কিছু দিন আগে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত ‘বাঘবন্দি মিসির আলি’ বইটি পড়ছিলাম। লেখক লিখেছেন, “মিসির আলির হাতে খবরের কাগজ। তিনি খবরের কাগজে চোখ বুলাচ্ছেন –RICT Solution logo হঠাৎ এমন কোনো খবর চোখে পড়ে কি-না যা মনে গেঁথে যায়। এমন কিছু চোখে পড়ছে না। হত্যা, ধর্ষণ ছাড়া তেমন কিছু নেই। মিসির আলির মনে হল সব পত্রিকার এই দুটি বিষয়ে আলাদা পাতা করা উচিত। খেলার পাতা, সাহিত্য পাতার মত হত্যা পাতা, ধর্ষণ পাতা। যারা ঐ সব বিষয় পড়তে ভালবাসে তারা ঐ পাতাগুলো পড়বে। যারা পড়তে চাই না তারা পাতা আলাদা করে রাখবে। বিশেষ বিশেষ দিনে হত্যা এবং ধর্ষণ বিষয়ে সচিত্র ক্রোড়পত্র বের হবে।” মিসির আলির এমন ভাবনা বাস্তবে রুপ নিতে আর বাকি আছে কি! পরিস্থিতি এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যে দেশের প্রতিটি জনপদে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনাগুলো পত্রিকার একটি পাতায় লিপিবদ্ধ করতে সম্পাদকেরা হিমশিম খাবে। সাপ্তাহিক ক্রোড়পত্র তৈরি করে পাঠকের মন জয় করে নিতেও সক্ষম হবে। বর্তমানে সভ্য সমাজের অত্যাধুনিক স্বাধীনতার ফলস্বরপ ছেলে-মেয়েদের অবাধ চলাফেরা, বিবাহ পূর্ব প্রেম-ভালবাসার ফাঁদে পা দিয়ে প্রতারিত হওয়া, পরকীয়া প্রেমের খেসারত হিসেবে ব্ল্যাকমেইলের পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনাগুলো হয়ে উঠেছে প্রতিশোধের হাতিয়ার। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অন্যতম টার্গেট হয়ে উঠেছে নারীরা- শিশু, তরুণী কিংবা গৃহিণী সবধরনের নারী চরিত্রই হয়ে উঠেছে টার্গেটের অন্তর্ভুক্ত। তৃতীয়/চতুর্থ শ্রেণীর শিশুরাও পিতৃতুল্য নরপিশাচদের অবৈধ লালসার পাত্রী হচ্ছে প্রতিশোধের ক্ষেত্র হিসেবে। কয়েক দিন আগে ফেসবুকের নিউজ ফিডে একটি ছোট স্ট্যাটাস দৃষ্টিগোচর হলো- তার সারমর্ম এমন যে প্রধানমন্ত্রী মহোদয় ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে সরাসরি মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকরের ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। মনে করি আইন পাশ হলো যে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। এটা যদি বাস্তবায়ন না হয় তাহলে এই আইনের মূল্য কি? প্রচলিত আইনের সঠিক বাস্তবায়ন হলেও এই ব্যাধির নিয়ন্ত্রণ হবে বলে আশা করা যায়। যে দেশে অপরাধীরা প্রভাব, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যায়, আইনের উর্ধ্বে চলে যায় সে দেশে ভুক্তভোগীদের বিচার চাওয়া টা বেমানান। প্রতিবাদ ঐ কী-বোর্ডেই থেমে যাবে। বিগত দুই দশকের বেশি সময় ধরে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছে নারী। বর্তমান সংসদীয় কার্যক্রমে নারী সাংসদ আগের চেয়ে বেশি। এমতাবস্থায় নারীরা কি তাদের নিরাপত্তায় আইনের সুশাসন আশা করতে পারে না!!!! ….

Leave A Comment