​​(বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন আইন, ২০১৯ (খসড়া)’ এর উপর মতামত আহবান)

​​(বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন আইন, ২০১৯ (খসড়া)’ এর উপর মতামত আহবান)

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ

নীতি ও কার্যক্রম শাখা

www.mohfw.gov.bd

 

স্মারক নং-৫৯.০০,০০০০.১১৪.২২.০০৮.২০১৮-৯৮.                                              তারিখঃ ০৩/১২/২০১৯ খ্রিঃ

 

বিষয়ঃ বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন আইন, ২০১৯ (খসড়া)” এর উপর অংশীজনের মতামত আহবান।

 

উপর্যক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণের উদ্দেশে। চিকিৎসা শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের চিকিৎসা শিক্ষা কার্যক্রম এবং যোগ্যতার স্বীকৃতি প্রদান, চিকিৎসা শিক্ষা প্রদানকারীদের মান তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে অ্যাক্রেডিটেশন প্রদানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে আইন প্রণয়ন করার লক্ষ্যে “বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা আ্যক্রেডিটেশন আইন, ২০১৯ (খসড়া)” নামে একটি আইনের খসড়া প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে (www.mohfw.gov.bd) এতধারা প্রকাশ করা হলাে। প্রণীত আইনটির খসড়ার উপর সুচিন্তিত মতামত আগামী ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিঃ তারিখের মধ্যে সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা বরাবর লিখিতভাবে ডাকযোগে অথবা ই-মেইলে (policyact@met’wd.gov.bd) প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

 

উপসচিব

ফোন:৯৫৪৬৩৭৬

 

বিতরণ (জেষ্ঠতার ক্রমানুসারে নয়)

১। সিনিয়র সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।

২। সিনিয়র সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।

৩। সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।

৪। সচিব, অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।

৫। চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, আগারগাঁও, ঢাকা।

৭। বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা বিভাগ, খুলনা।

৬। ভাইস চ্যান্সেলর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়/রাজশাহী মেডিক্যাল বিৰিণালি:/চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

৭। মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা।

৮। পরিচালক (স্বাস্থ্য শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা।

৯। সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ), তোপখানা, ঢাকা।

১০। সভাপতি, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এ সার্জনস (বিসিপিএস), মহাখালী, ঢাকা।

১১। সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি), ঢাকা।

১২। সভাপতি, বাংলাদেশ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ স্বাচিপ, ঢাকা।

 

অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পূরণ করা হলো:

১। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তেজগাঁও, ঢাকা।

২। মাননী মন্ত্রীর একান্ত সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।

৩। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের একান্ত সচিব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।

৪। সচিব মহোদয়ের একান্ত সচিব স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মশাল, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।

* সিস্টেম এনালিষ্ট, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় (ওয়েব সাইটে প্রকাশের জন্য)।

৬ অফিস কপি/মাস্টার কপি।

 

২৬-১১-২০১৯ (খসড়া)

বিল নং……, ২০১৯

 

চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে চিকিৎসা শিক্ষা ক্ষেত্রে দেশের সরকারি ও

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষা কার্যক্রমকে অ্যাক্রেডিটেশন প্রদানের লক্ষ্যে

চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে আনীত বিল

যেহেতু চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে চিকিৎসা শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারি ও

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের চিকিৎসা শিক্ষা কার্যক্রম এবং যােগ্যতার স্বীকৃতি প্রদান, চিকিৎসা শিক্ষা প্রদানকারীদের মান তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে অ্যাক্রেডিটেশন প্রদানসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান করা প্রয়োজন

 

যেহেতু অ্যাক্রেডিটেশন প্রদানের উদ্দেশ্যে একটি চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজন;

সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল-

 

 

প্রথম অধ্যায়

প্রারম্ভিক, ইত্যাদি

 

১। সংক্ষিপ্ত শিরােনাম ও প্রবর্তন।- (১) এই আইন “বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন আইন, ২০১৯” নামে অভিহিত হইবে।

(২) সরকার, সরকারি গেজেটে, প্রজ্ঞাপন দ্বারা যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে।

 

২। সংজ্ঞা।- বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে

(১) ‘অ্যাক্রেডিটেশন’ অর্থ নির্ধারিত মানদন্ডে উত্তীর্ণ সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি’;

(২) ‘অ্যাক্রেডিটেশন সনদ অর্থ ‘বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত অ্যাক্রেডিটেশন সনদ;

(৩) ‘অ্যাক্রেডিটেশন কমিটি’ অর্থ ধারা ১১ এর অধীন কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত অ্যাক্রেডিটেশন কমিটি;

(৪) কাউন্সিল অর্থ এই আইনের অধীন গঠিত বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল;

(৫) ‘চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ অর্থ চিকিৎসক, ডেন্টাল সার্জন, নার্স, চিকিৎসা সহায়তাকারীসহ সকল চিকিৎসা পেশাজীবীর ডিপ্লোমা, মাদক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান;

(৬) ‘চেয়ারম্যান’ অর্থ বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান

(१) ‘টেকনিক্যাল কমিটি’ অর্থ এই আইনের অধীন কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত টেকনিক্যাল কমিটি;

(৮) ‘তফসিল’ অর্থ এই আইনের কোন তফসিল;

(৯) তহবিল অর্থ কাউন্সিলের তহবিল;

(১০) নির্ধারিত মানদন্ড’ অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত, বা অনুরূপ বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকারের অনুমোদনক্রমে কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত নির্ধারিত মানদন্ড;

(১১) ‘প্রবিধি’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(১২) ‘প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান’ অর্থ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত চিকিৎসা শিক্ষার কোর্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান;

(১৩) প্রধান নির্বাহী অর্থ সরকারের অনুমােদনক্রমে কাউন্সিল কর্তৃক নিয়ােগকৃত প্রধান নির্বাহী;

(১৪) ‘সাময়িক অ্যাক্রেডিটেশন’ অর্থ ধারা ১৪ এর অধীন কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত সাময়িক অ্যাক্রেডিটেশন সনদ;

(১৫) ফ্রেমওয়ার্ক’ অর্থ ধারা ১২ এর অধীন প্রণীত বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্রেডিটেশন ফ্রেমওয়ার্ক;

(১৬) ‘বিধিমালা’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধিমালা; এবং

(১৭) নিবন্ধন বহি অর্থ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রমসমূহ এবং অ্যাক্রেডিটেশন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত সম্বলিত বহি।

 

৩। প্রযােজ্য। আপাতত বলবৎ অন্য আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার কর্তৃক চিকিৎসা শিক্ষার উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও অনুমােদিত সরকারি এবং বেসরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ডেন্টাল ইউনিট, হোমিওপ্যাথি, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক প্রতিষ্ঠান, নার্সিং কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট, আইএইচটি, ম্যাটস চিকিৎসা শিক্ষার সকল প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্রেডিটেশনের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলি প্রযােজ্য হইবে।

 

 

দ্বিতীয় অধ্যায়

কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা, কার্যাবলি, সভা, ইত্যাদি

৪। কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা।- (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন ব্ারা ‘বাংলাদেশ টিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল’ নামে একটি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করিবে।

(২) কাউন্সিল একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে। ইহার একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই

আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে

রাখিবার ও সরকারের অনুমােদনক্রমে হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে। কাউন্সিল প্রয়োজনে মামলা করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে ইহার বিরুদ্ধেও মামলা করা যাইবে।

 

৫। কাউন্সিলের কার্যালয়। কাউন্সিলের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত হইবে। তবে প্রয়োজনে ইহার আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করা যাইবে।

 

৬। কাউন্সিলের গঠন।- (১) সরকার নিম়রূপভাবে কাউন্সিল গঠন করিবে।

(ক) চেয়ারম্যান (সরকার কর্তৃক মনোনীত);

(খ) চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নের সহিত সম্পৃক্ত অধ্যাপক পদমর্যাদার ২ (দুই) জন চিকিৎসক (সরকার কর্তৃক মনোনীত);

(গ) মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর (পদাধিকারবলে);

(ঘ) সরকার কর্তৃক মনােনীত চিকিৎসা শিক্ষায় অবদানকারী স্বনামধন্য ০১ (এক) জন মেডিকেল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, ০১ (এক) জন ডেন্টাল কলেজ/ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, ০১ (এক) জন নার্সিং কলেজ/ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং

০১ (এক) জন আইএইচটি/ম্যাটস এর প্রাক্তন অধ্যক্ষ

(ঙ) স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্মসচিব (চিকিৎসা শিক্ষা);

(চ) সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (পদাধিকারবলে);

(ছ) রেজিস্ট্রার, বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (পদাধিকারবলে);

(জ) ডিন, ফ্যাকাল্টি অব পােস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিসিন এন্ড রিসার্চ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (পদাধিকারবলে;

(ঝ) সরকার কর্তৃক মনোনীত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের আন্ডার গ্রাজুয়েট ডিনদের মধ্য হইতে ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

() পরিচাসক, সেন্টার ফর মেডিকেল এডুকেশন পদাধিকারবলে);

(ট) সরকার কর্তৃক মনােনীত ১ (এক) জন বায়ােমেডিক ইঞ্জিনিয়ার ; এবং

(ঠ) সরকার কর্তৃক মনোনীত ‘অল্টারনেটিভ মেডিসিন’ বিষয়ে অভিজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক/তদুর্ধব পদমর্যাদার একজন প্রাক্তন শিক্ষক।

(২) ধারা ৬ এর উপধারা (১) এর (ক) ও (খ) এর ০৩ (তিন) জন পূর্ণকালীন এবং বাকী ১৩ জন শালীন সদস্য হইবেন।

(৩) প্রধান নির্বাহী, বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবেন।

 

৭। চেয়ারম্যান।- (১) কাউন্সিলে সরকার কর্তৃক মনােনীত একজন চেয়ারম্যান থাকিবেন, যিনি অধ্যাপক পদমর্যাদার একজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক হইবেন এবং ন্যূনতম ০১ (এক) বৎসরের প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হইবেন, তিনি কাউন্সিল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(২) চেয়ারম্যান তঁহার নিয়ােগের তারিখ হইতে পরবর্তী ০৪ (চার) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।

(৩) চেয়ারম্যান সরকার বরাবর নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করিতে পারিবেন।

(৪) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণকালীন সদস্যদের মধ্য হইতে জ্যেষ্ঠ সদস্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন।

 

৮। সদস্যপদের মেয়াদ ও পদত্যাগ।- (১) ধারা ৬ অনুযায়ী মনােনীত সদস্যগণের পদের মেয়াদ হইবে তাঁহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী ০৪ (চার) বৎসর।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত যে কোন মনােনীত সদস্য চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন এবং কাউন্সিল কর্তৃক উহা গৃহীত হইবার তারিখ হইতে উক্ত পদটি শুন্য বলিয়া গণ্য হইবে।

(৩) চেয়ারম্যান এবং মনােনীত সদস্যগণ পরপর ০২ (দুই) মেয়াদের বেশি থাকিতে পারিবে না।

(৪) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত যে কোন মনােনীত সদস্যের পদ কোন কারণে শূন্য হইলে উক্ত সদস্যপদের নির্ধারিত মেয়াদের অবশিষ্ট সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার কর্তৃক নতুন সদস্য মনােনয়ন দ্বারা পূরণ করা যাইবে।

 

৯। চেয়ারম্যান ও সদস্যপদে অযােগ্যতা ও অপসারণ।- (১) কোনাে ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সদস্য হইবার যােগ্য হইবেন না বা চেয়ারম্যান বা সদস্য থাকিতে পারিবেন না, যদি তিনি

(ক) বাংলাদেশের নাগরিক না হন;

(খ) সরকারি চাকরি হইতে চাকরিচ্যুত হন;

(গ) নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন;

(ঘ) কোনাে উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষিত হন;

(ঙ) কোনাে উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হন;

(চ) কোনাে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণ খেলাপি হিসাবে ঘােষিত হন;

(২) সরকার, যে কোনাে সময়, চেয়ারম্যান বা কোনাে সদস্যকে অপসারণ করিতে পারিবে, যদি তিনি (ক) এই আইনের অধীন তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন বা অস্বীকার করেন বা সরকারের বিবেচনায় অক্ষম হন; অথবা।

(খ) সরকারের বিবেচনায়, তাহার ক্ষমতার অপব্যবহার করেন।

 

১০। কাউন্সিলের ক্ষমতা ও কার্যাবলি।- (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কাউন্সিলের ক্ষমতা ও

কার্যাবলি হবে নিম্নরূপ, যথা:

(ক) দেশী-বিদেশী চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে এই আইনের অধীন অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদান, নবায়ন, প্রত্যাখ্যান, স্থগিতকরণ ও বাতিলকরণ;

(খ) চিকিৎসা শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদানে নির্ধারিত মানদণ্ড শর্তসমূহ নির্ধারণ এবং উক্ত নির্ধারিত মানদন্ডের ও শর্তসমূহের মান উন্নয়ন;

(গ) চিকিৎসা শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রােগ্রামের মানদন্ড পর্যালোচনা;

(ঘ) চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্রেডিটেশন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ও উপাত্ত সম্বলিত নিবন্ধন বহি প্রণয়ন ও সংরক্ষণ;

(ঙ) চিকিৎসা শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্রেডিটেশন প্রদানের মানদণ্ড নির্ধারণে ‘সেন্টার অব রেফারেন্স হিসেবে কাজ করা ;

(চ) আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত মানদন্ড অনুযায়ী কাউন্সিল কর্তৃক দেশের চিকিৎসা শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য নীতিমালা ও নির্দেশিকা প্রণয়ন;

(ছ) অ্যাক্রেডিটেশন কার্যক্রমে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দক্ষতা নিশ্চিতকরণ;

(জ) অ্যাক্রেডিটেশনের ক্ষেত্রে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযােগিতা প্রদান ও গ্রহণ;

(ঝ) অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি, অ্যাক্রেডিটেশন কর্মকান্ডের উন্নয়ন, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম, গবেষণা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন ইত্যাদি আয়ােজন এবং অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ক তথ্যাদির বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ;

(ঞ) সরকারের অনুমােদনক্রমে কাউন্সিলের জন্য জনবল নিয়ােগ, কার্যাদি, ক্ষমতা, পারিশ্রমিক, ভাতা, সম্মানী, সুবিধা, আচরণ বিধি নির্ধারণ, শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলি নির্ধারণ;

(ট) সরকারের নিকট অ্যাক্রেডিটেশন প্রতিবেদন পেশ, প্রয়ােজনে পরামর্শ গ্রহণ ও প্রদান এবং সরকার কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য কার্যসম্পাদন;

(ঠ) অ্যাক্রেডিটেশন সংক্রান্ত প্রতিবেদন, রিটার্ণ, বিবৃতি, প্রাতিষ্ঠানিক নিরীক্ষা ও মূল্যায়ন সম্পর্কিত তথ্য গ্রহণ ও মনিটর করা;

(ড) প্রাতিষ্ঠানিক নিরীক্ষা পরিচালনা ; এবং

(ট) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যাবলী সম্পাদন করা।

(২) কাউন্সিল তার সামগ্রিক কর্মকান্ডের জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহীর নিকট দায়ী থাকিবে।

 

১১। কাউন্সিল সভা।- (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, কাউন্সিল উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) চেয়ারম্যান কাউন্সিলের সভা আহ্বান করিবেন এবং তদকর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হইবে। তবে শর্ত থাকে, ন্যূনতম প্রতি ৪ (চার) মাসে কমপক্ষে ১ (একটি) সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

(৩) কাউন্সিল সভার কোরামের জন্য ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়ােজন হইবে।

(৪) কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কাউন্সিল সভায় উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সম্মতি প্রয়ােজন ইইবে।

(৫) কাউন্সিল সভায় প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভােট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে

সভায় সভাপতির নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।

১২। কাউন্সিল কমিটি।- (১) আবেদনকারী চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের কোর্সসমূহের প্রভিশনাল ও অ্যাক্রেডিটেশন সনদ আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অনুসন্ধান, পরিদর্শন, প্রতিবেদন সহ নির্দেশিত অন্যান্য কার্যাদি সম্পন্নের লক্ষ্যে কাউন্সিল উহার সদস্যদের মধ্য হইতে টেকনিক্যাল কমিটি ও অ্যাক্রেডিটেশন কমিটি গঠন করিবে। কাউন্সিল প্রয়োজনে যে কোন যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে এই কমিটিতে কো-অপ্ট করিতে পারিবে। কমিটির সদস্য সংখ্যা, সদস্যদের যােগ্যতা, নিয়ােগ, কার্যপদ্ধতি এবং দায়িত্ব বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে; এবং

(২) কাউন্সিল এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে উহার সদস্যদের মধ্য হইতে প্রয়ােজন অনুযায়ী অনান্য কমিটি গঠন করিতে পারিবে, যাহার সদস্য সংখ্যা, কার্যপদ্ধতি এবং দায়িত্ব বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

১৩। ফ্রেমওয়ার্ক।- কাউন্সিল সরকারের অনুমোদনক্রমে চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অ্যাক্রেডিটেশন ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন করিবে। সময়ে সময়ে প্রয়োজনে নিরিখে ফ্রেমওয়ার্ক সংশোধন, সংযোজন ও পরিবর্তন করিতে পারিবে। ফ্রেমওয়ার্ক, উহার উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

১৪। নির্ধারিত মানদন্ড প্রস্তুতকরণ ও সংশােধন।- কাউন্সিল, সরকারের অনুমােদনক্রমে নির্ধারিত মানদন্ড প্রণয়ন ও সংশোধনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করিবে। মানদন্ডসমূহ বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

 

তৃতীয় অধ্যায়

অ্যাক্রেডিটেশন সনদ, ইত্যাদি

 

১৫। সাময়িক অ্যাক্রেডিটেশন ।- (১) চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সাময়িক অ্যাক্রেডিটেশন আবেদনের প্রেক্ষিতে কাউন্সিল –

(ক) মানদন্ড অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা শিক্ষা কার্যক্রম ও আনুষঙ্গিক তথ্যাবলি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান করিবে;

(খ) প্রতিষ্ঠানের তথ্যের অসংগতি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, শিক্ষা কার্যক্রমের মান অনুষ্তীর্সহ অন্যান্য যোগ্যতা প্রতীয়মান হয় কাউন্সিল আবেদন বাতিল করবে;

(গ) কাউন্সিলের নির্ধারিত শর্তাবলি পূরণ ও মান উন্নয়নের জন্য আবেদনকারীকে সুযােগ প্রদান করিবে

(ঘ) সামরিক অ্যাক্রেডিটেশন প্রদানের জন্য প্রয়োজনে অরিও তথ্যাদি চাহি পারিবে; এবং

(ঙ) কাউন্সিল কর্তৃক ২ (দুই) বছর মেয়াদী সাময়িক অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) সাময়িক অ্যাক্রেডিটেশনের আবেদন পদ্ধতি, ফরম, ফি, শর্ত, যাচাই-বাছাই, সনদ, সনদ নবায়ন, প্রত্যাহার, স্থগিত, বাতিল বা বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল ও পুন:বিবেচনা, প্রশাসনিক ব্যবস্থা সহ অন্যান্য সকল প্রক্রিয়া বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

১৬। অ্যাক্রেডিটেশন।- সাময়িক অ্যাক্রেডিটেশন প্রাপ্ত উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানকে মেয়াদ শেষ হওয়ার পুর্বেই কাউন্সিলের নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য আবেদন করিতে হইবে।

১৭। অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদান।- ধারা ১৪ এর অধীন আবেদনের ভিত্তিতে কাউন্সিল

(ক) চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ে বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে এবং এক্রেডিটেড প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অনুযায়ী সনদ প্রদান করিবে; এবং

(খ)যদি এইরূপ প্রতীয়মান হয় যে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত শর্তাবলি পূরণ করিবার জন্য আবেদনকারীকে সুযোগ প্রদান করা সমীচীন, তাহা হইলে উক্ত শর্তাবলি পূরণ করিবার জন্য কাউন্সিল আবেদনকারীকে উহার বিধির আলোকে সময় প্রদান করিবে।

১৮। অ্যাক্রেডিটেশন সনদের মেয়াদ ও নবায়ন।- (১) অ্যাক্রেডিটেশন সনদের মেয়াদ হইবে ০৫ (পাঁচ) বৎসর।

(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত অ্যাক্রেডিটেশন সনদের মেয়াদ শেষ হইবার ন্যূনতম ০৬ (ছয়) মাস পূর্বে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ নবায়ন/পুনরায় স্বীকৃতির জন্য নির্ধারিত ফিসহ কাউন্সিলের নিকট নির্ধারিত ফরমে আবেদন করিতে হইবে। নবায়ন বা পুনরায় স্বীকৃতির মেয়াদকাল ও পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

১৯। ফি। সরকারের পূর্ব অনুমোদন সাপেক্ষে, কাউন্সিল, অ্যাক্রেডিটেশন এবং নবায়ন ফি নির্ধারণ ও পুনঃনির্ধারণ করিতে পারিবে।

২০। সনদ সংরক্ষণ ও প্রদর্শন।- প্রতিটি অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের উক্ত সনদ সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং প্রযােজ্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করিতে পারিবে কিংবা কর্তৃপক্ষকে চাহিদামাফিক দেখাইতে হইবে।

২১। তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা, ইত্যাদি।- কাউন্সিল প্রয়ােজন অনুযায়ী প্রত্যেক আবেদনকারীর সনদ প্রাপ্তি কিংবা সনদপ্লাপ্ত প্রতিষ্ঠানে অন্যবিধ যাচাই কাজে প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে যে কোনো তথ্য সংগ্রহ করিতে পারিবে।

২২। নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনিক জরিমানা।- (১) আক্রেডিটেশন সার্টিফিকেট গ্রহণ ব্যতিরেকে কোন চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উহাকে অ্যাক্রেডিটেশন সার্টিফিকেট প্রাপ্ত বলিয়া বিজ্ঞাপন প্রচার এবং তথ্য নির্দেশিকা বা পুস্তিকা প্রকাশ করিতে পারিবে না।

(২) কোন চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্রেডিটেশন সার্টিফিকেট স্থগিত, বাতিল বা প্রত্যাহার করা হইলে উক্ত প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত সাটিফিকেট সমর্পণ করিতে বাধ্য থাকিবে।

(৩) কাউন্সিল কর্তৃক মনােনীত কোন ব্যক্তি কোন চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে তাহার নিকট কোনরুপ ভুল তথ্য উপস্থাপন বা কোন তথ্য গোপন করা যাইবে না।

(৪) উপ-ধারা (১), (২) ও (৩) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্রেডিটেশন সনদ স্থগিত, প্রত্যাহার বা বাতিল এবং উহার অতিরিক্ত হিসাবে প্রশাসনিক জরিমানা আরােপ করা যাবে। –

 

২৩। আক্রেডিটেশন সনদ বাতিল।- অ্যাক্রেডিটেশন সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এই আইন বা তদাধীন প্রণীত বিধি ও প্রবিধিতে উল্লিখিত শর্তাবলি বা নির্ধারিত মানদন্ড লঙ্ঘন করিলে বা প্রতিপালন করিতেছেনা মর্মে কাউন্সিলের নিকট প্রতীয়মান হইলে, যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযােগ প্রদান পূর্বক কাউন্সিল অ্যাক্রেডিটেশন সনদ বাতিল করিতে পারিবে।

 

২৪। প্রশাসনিক আদেশের বিরুদ্ধে আপিল ও পুনর্বিবেচনার আবেদন।- (১) আবেদনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রশাসনিক আদেশের বিরুদ্ধে প্রয়ােজন মনে করিলে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে কাউন্সিলের নিকট পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করিতে পারিবে।

(২) আবেদনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিলের পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তে সংস্ষুজ্জ হইলে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বাের্ডের নিকট আপিল করিতে পারিবে।

(৩) সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সভাপতিত্বে গঠিত আপিল বাের্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর ভাইস চ্যান্সেলর এবং সরকার কর্তৃক মনােনীত চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবায় প্রথিতযশা একজন চিকিৎসক সদস্য হইবেন।

(৪) আপিলের ক্ষেত্রে আপিল বাের্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

২৫। তথ্যের গোপনীয়তা।- কাউন্সিলের কোন সদস্য বা কর্মচারী বা কমিটি কর্তক এই আইনের অধীনে প্রদত্ত কোন বিবরণ বা সরবরাহকৃত তথ্যাবলি বা সাক্ষ্য-প্রমাণ বা পরিদর্শন রিপাের্ট হইতে প্রাপ্ত যে কোন তথ্য গােপনীয় বলিয়া বিবেচিত হইবে।

চতুর্থ অধ্যায়

জনবল নিয়োগ ইত্যাদি

 

২৬। প্রধান নির্বাহী নিয়োগ।- (১) কাউন্সিলে ১ (এক) জন প্রধান নির্বাহী থাকিবেন, যিনি কাউন্সিলের অর্গানোগ্রাম ভুক্ত কর্মচারী হইবেন। তিনি সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে কাউন্সিল কর্তৃক নিয়ােগপ্রাপ্ত হইবেন।

(২) প্রধান নির্বাহীর পদ শূন্য হইলে কিংবা অসুস্থতাজনিত কারণে বা অন্য কোন কারণে তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা প্রধান নির্বাহী পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত কাউন্সিলের সাংগঠনিক কাঠামাের মধ্যে সবাের্চ পদমর্যাদাধারী কর্মচারী প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করেন।

(৩) প্রধান নির্বাহী কাউন্সিলের সার্বক্ষণিক কর্মচারী হইবেন এবং তিনি

(ক) কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকবে;

(খ) কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব ও কার্যসম্পাদন করিবেন;

(গ) কাউন্সিলের প্রশাসন পরিচালনা করিবেন;

(ঘ) সামগ্রিক কর্মকান্ডের জন্য চেয়ারম্যানের নিকট দায়ী থাকে; এবং

(ঙ) কাউন্সিলকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবেন।

২৭ কর্মচারী নিমেগা- কাউন্সিলের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে ক্ষাউন্দিল কর্তৃক প্রস্তাবিত এবং সরকার কর্তৃক অনুমােদিত সাংগঠনিক কাঠামাে অনুযায়ী প্রয়ােজনীয় সংখ্যাক কর্মচারী নিয়ােগ করিবে এবং তাহাদের চাকরির শর্তাবলি কাউন্সিলের বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

পঞ্চম অধ্যায়

চুক্তি, তহবিল, হিসাবরক্ষণ, ইত্যাদি

 

২৮। চুক্তি।- কাউন্সিল উহার কার্যাবলি সম্পাদনের প্রয়ােজনে চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে।তবে কোন দেশী প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা এবং বিদেশী সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে চুক্তির ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমােদন গ্রহণ করিতে হবে।

২৯। তহবিল।- (১) কাউন্সিলের কার্য পরিচালনার জন্য উহার একটি তহনির থাকিবে।

(২) নিম্নবর্ণিত উৎসসমুহ হইতে প্রাপ্ত অর্থ তহখিলে জনা হইবে, ব্া:- (ক) কাউন্সিল কর্তৃক ধার্যকৃত ফি বাবদ প্রাপ্ত অর্থ;

(খ) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বার্ষিক মঞ্জুরি;

(গ) কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান

(ঘ) কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত ঋণ;

(ঙ) তহবিলের অর্থ বিনিয়ােগ হইতে প্রাপ্ত মুনাফা

(চ) কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত সেবা হইতে প্রাপ্ত আর ;

(ছ) এছাড়া অন্য কোন বৈধ উৎস থেকে প্রাপ্ত আয়।

(৩) তহবিলের অর্থ কাউন্সিলের অনুমোদন ক্রমে, কোন তফসিলী ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং

চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর যৌথ স্বাক্ষরে তহবিল হিসাব পরিচালিত হইবে।

(৪) তহবিলের অর্থ বা উহার অংশবিশেষ কাউন্সিল প্রয়ােজন অনুযায়ী বিনিয়োগ করিতে পারিবে।

(৫) তহবিল হইতে কাউন্সিলের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে, তবে পরবর্তী কাউন্সিলের সভায়

সকল ব্যয় এর অনুমোদন নিতে হইবে।

 

৩০। বার্ষিক বাজেট বিবরণী।- (১) কাউন্সিল পরবর্তী অর্থ বৎসরের জন্য ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সরকারের নিকট বার্ষিক বাজেট বিবরণী পেশ করিবে এবং উহাতে পরবর্তী অর্থ বৎসরের জন্য সরকারের নিকট হইতে কাউন্সিলের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ করিবে।

(২) উক্তরূপ বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে।

 

৩৯। হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা।- (১) কাউন্সিল যথাযথভাবে উহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক নিবরণী প্রস্তুত করিবে।

(২) মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, কাউন্সিলের প্রতি বৎসরের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কাউন্সিলের নিকট প্রেরণ করিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) মােতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কাউন্সিলের সকল রেকর্ড, দলিল দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন।

(৪) উপ ধারা (৩) উল্লিখিত হিসাব নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (President’s Order No. 2 of 1973) 3 Article 2(l) (b) Rf IOIÉ অ্যাকাউন্টেন্ট দ্বারা কাউন্সিলের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে কাউন্সিল এক বা একাধিক চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে এবং এইরূপ নিয়ােগকৃত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত হারে পারিতােষিক প্রাপ্য হইবেন।

 

৩২। বার্ষিক প্রতিবেদন।- (১) প্রতি আর্থিক বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী ১ (এক) মাসের মধ্যে প্রধান নির্বাহী কাউন্সিলের পূর্ববর্তী বৎসরের কার্যাবলি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন কাউন্সিলের নিকট পেশ করিবেন এবং কাউন্সিল উহা সরকারের নিকট দাখিল করিবে এবং প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

(২) সরকার প্রয়ােজনমত কাউন্সিলের নিকট হইতে যে কোন সময় উহার যে কোন কাজের প্রতিবেদন বা বিবরণী চাহি পারিবে এবং কাউন্সিল উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।

ষষ্ঠ অধ্যায়

বিবিধ

 

৩৩। ক্ষমতা অর্পণ।- কাউন্সিল উহার যে কোন ক্ষমতা, প্রয়ােজনবােধে নির্ধারিত শর্তে, প্রধান নির্বাহী বা অন্য কোন কর্মচারীর নিকট অর্পণ করিতে পারিবে।

 

৩৪। বিধি-প্রবিধি প্রণয়নের ক্ষমতা। কাউন্সিল এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকারের পূর্বানুমােদনক্রমে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন বারা বিধি-প্রবিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

 

৩৫। ইংরেজিতে অনুদিত প্রকাশ।-এই আইন কার্যকরী হইবার পর সরকার, প্রয়ােজনে সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের একটি অনুদিত ইংরেজি পাঠ (Authentic English Text ) প্রকাশ করিতে পারিবে। তবে শর্ত থাকে, বাংলা পাঠ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরােধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

By |December 11th, 2019|News, Uncategorized|0 Comments

About the Author:

Leave A Comment