পেশা যখন মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট

পেশা যখন মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট

দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে জনগণের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসেবার একটি অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হয় এই কোর্স। দেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৭৩-৭৮) অনুযায়ী জনগণের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার সেবার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৬ সালে সরকার বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধীন তিন বছরমেয়াদি রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ ডিপ্লোমা কোর্স চালু করে। পরে এটি চার বছরমেয়াদি একটি ডিপ্লোমা কোর্স হিসেবে চালু হয়।

মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল বা ম্যাটস কী? :

মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) হলো এক ধরনের বিশেষায়িত মেডিক্যাল ডিপ্লোমা স্কুল। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ ধরনের স্কুল প্রতিষ্ঠার অনুমতি প্রদান করে। অনুমোদনের পর সব ম্যাটস বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অনুষদের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পাঠদান করা হয় এবং অনুষদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের সংখ্যা আড়াইশর অধিক। ম্যাটসে ভর্তির যোগ্যতা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জীববিজ্ঞানসহ এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ২.৫।

দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে জনগণের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসেবার একটি অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হয় এই কোর্স। দেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৭৩-৭৮) অনুযায়ী জনগণের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার সেবার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৬ সালে সরকার বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধীন তিন বছরমেয়াদি রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ ডিপ্লোমা কোর্স চালু করে। পরে এটি চার বছরমেয়াদি একটি ডিপ্লোমা কোর্স হিসেবে চালু হয়।

ডিপ্লোমা ইন মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) কী? :

ম্যাটস প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত একটি কোর্সের নাম ডিপ্লোমা ইন মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ)। এই কোর্সের মেয়াদ বর্তমানে ৪ বছর। একজন ম্যাটস শিক্ষার্থী চার বছর ধরে এমবিবিএস কোর্সের প্রায় সব বিষয় যেমন- মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথলজি, ফিজিওলজি, অ্যানাটমি, মেডিসিনসহ বিভিন্ন প্যারাক্লিনিক্যাল ও ক্লিনিক্যাল বিষয়গুলো পড়ে থাকেন। চিকিৎসা পেশায় তত্ত্বীয় শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে হাতে-কলমে শিক্ষারও গুরুত্ব অনেক বেশি। এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের অংশ হিসেবে যেমন বিভিন্ন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হয়, তেমনি ম্যাটসেও ইন্টার্নশিপ করতে হয়। ম্যাটসের চতুর্থ বর্ষে বিভিন্ন হাসপাতালে হাতে-কলমে রোগী পর্যবেক্ষণ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা প্রদানসহ রোগীর অন্যান্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ের ওপর সরাসরি শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় ওই ইন্টার্নি করার সুযোগ রয়েছে। সরকার অনুমোদিত যে কোনো ম্যাটস থেকে শিক্ষাক্রম সম্পূর্ণ করার পর উত্তীর্ণদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ (ডিএমএফ) সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। ডিএমএফ ডিগ্রিধারীরা বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন/লাইসেন্সপ্রাপ্ত হয়ে চাকরি বা প্রাইভেট মেডিক্যাল প্র্যাকটিস করতে পারেন।

কাজের সুযোগ :

ম্যাটস কোর্সসম্পন্নকারীকে ডিএমএফ সার্টিফিকেট প্রদান করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই চিকিৎসক শ্রেণি তৈরি হয়। এই ডিগ্রিপ্রাপ্তদের বলা হয়ে থাকে সহকারী ডাক্তার। সরকারি চাকরিতে ডিএমএফদের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (স্যাকমো) বা উপ-সহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা অথবা মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে নানাবিধ পদে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সাল থেকে গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টরা চিকিৎসা তথা স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছেন। ডিএমএফ ডিগ্রিপ্রাপ্তরা বহুভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, স্কুল হেলথ ক্লিনিক, বিভিন্ন আধা সরকারি রা করপোরেশন যেমনÑ তিতাস গ্যাস, বিআইডব্লিউটিসি, বিজি প্রেস, বাংলাদেশ বিমান ছাড়াও বিভিন্ন এনজিও ব্র্যাক, গণস্বাস্থ্য, কেয়ার, গণসাহায্য সংস্থা, আইসিডিডিআরবি, সেভ দ্য চিলড্রেনেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে এসব ডিগ্রিধারীর। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি নানা প্রতিষ্ঠানে তাদের কাজের সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে। আবার চাকরি না করলেও একজন ডিএমএফ প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার হিসেবে যে কোনো স্থানে প্র্যাকটিস করে উপার্জন করতে পারেন। অর্থাৎ এই কোর্স করলে চাকরির সঙ্গে সঙ্গে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও রয়েছে।
সূত্রঃ ইন্টারনেট

Leave A Comment